কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।। সম্মানিত ভিজিটর যেকোন প্রকারের যোগাযোগের জন্য অনুগ্রহ করে "যোগাযোগ মেনু" অথবা "Facebook Chat" বাটন ব্যবহার করুন।।

একটি সংশয়ের জবাবঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেনো সেই গামেদি বংশের জিনা কারীনী মহিলাকে পাথর মেরে মৃত দণ্ড দিয়েছিলেন যদিও তিনি তওবা করেছিলেন?

প্রশ্ন: আমরা জানি, আদম আ. যে ভুল করেছিলেন তার জন্য তওবা করেছেন। আর আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, কেউ অন্যায় করার পর খাস দিলে তওবা করলে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করবেন।
তাহলে আমার প্রশ্ন হল, হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এক মহিলা এসে ব্যভিচারের শাস্তি গ্রহণ করতে চাইলে যখন তার শিশুটি মায়ের দুধ ছাড়া অন্য খাবার খাওয়ার উপযুক্ত হল তখন ওই মহিলাটিকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হল ব্যভিচারের শাস্তি স্বরূপ।
ওই নারী তো অনুতপ্ত ছিলেন। আর তার কৃত কর্মের জন্য অবশ্যই তিনি তওবাও করেছিলেন। তারপরও কেনও তাকে এই শাস্তি দেয়া হল?

উত্তর:
বিষয়টি সংক্ষেপে বলছি, আশা করি বুঝতে পারবেন।
বান্দা যখন আল্লাহর এবাদতে ত্রুটি-বিচ্যুতি করে, আল্লাহর হক নষ্ট করে করে তখন সে আল্লাহর নিকট তওবা করলে তিনি ইচ্ছে করলে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কেননা এটি তার হকের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন কেউ যদি সালাত পরিত্যাগ করে, রোজা ছেড়ে দেয়, আল্লাহর সাথে শরিক করে.. ইত্যাদি নানা ধরণের গুনাহ করার পর আল্লাহর নিকট লজ্জিত ও অনুতপ্ত হৃদয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেন।

কিন্তু যে বিষয়গুলো বান্দার হক এর সাথে সংশ্লিষ্ট বা দেশের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে বা যে সকল অপরাধের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেসব বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়াতেই শাস্তি মূলক ব্যবস্থার ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে মানুষ মানুষের ক্ষতি সাধন কিংবা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির করার দুঃসাহস দেখাবে না। ফলে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের জীবন হবে নিরাপদ ও শান্তিময়।

এ জন্যে এ সব ক্ষেত্রে দুনিয়াবী আইনে অরাধীকে শাস্তির মুখোমুখি করা হয়। আর তা বাস্তবায়ন করা মহান আল্লাহরই নির্দেশ।
যেমন কেউ যদি কাউকে হত্যা করে তাহলে সে যদি আল্লাহর নিকট তওবা করে তবুও দুনিয়াবি শাস্তি থেকে সে রেহাই পাবে না যতক্ষণ না নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ তাকে ক্ষমা করে।
ঠিক তদ্রূপ কেউ যদি সমাজে জিনা-ব্যভিচারের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাহলে সে ক্ষেত্রে কেবল আল্লাহর নিকট তওবা যথেষ্ট নয় বরং তাকে দুনিয়াবী ফৌজদারি আইনের মুখোমুখি হতে হবে-যেন অন্য মানুষ এ ধরণের অপকর্ম করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।

এ সকল অপরাধে অপরাধী খাঁটি অন্তরে তওবা করলে আখিরাতের শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে পারে আল্লাহ যদি তার তওবা কবুল করেন। কিন্তু তওবা দ্বারা দুনিয়ার এ সকল শাস্তি মাফ হবে না।
কেননা আল্লাহ তাআলা নিজেই কোরআনে এই সকল অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর ব্যতিক্রম করার কারও কোনও সুযোগ নেই।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহু আলাম।

হাদিস থেকে গামেদি মহিলার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পড়তে এই লিংকে ক্লিক করুন:
https://www.hadithbd.com/print.php?hid=13893
▬▬▬🌐🔰🌐▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দল্লাহিল হাদী আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

Share This Post
Menu
Menu
error: