যে ব্যক্তি লাগাতর দুই মাসের রোযা রাখা শুরু করেছে এর মধ্যে রমযান মাস ঢুকে গেছে এতে করে কি তার ‘লাগাতর’ এর বিষয়টি ভঙ্গ হয়ে যাবে

প্রশ্ন: আমি জানি, যে ব্যক্তি রমযান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করেছে তার জন্য কাফফারা হচ্ছে- দুই মাস রোযা রাখা কিংবা ষাটজন মিসকীনকে খাওয়ানো। এই দুই মাস রোযা কি লাগাতরভাবে রাখতে হবে? যে ব্যক্তি এ রোযাগুলো রাখা শুরু করেছে; এর মধ্যে রমযান মাস শুরু হয়ে গেছে সে কি রমযানের পর যে পর্যন্ত রোযা রেখেছিল এর পর থেকে শুরু করবে নাকি তাকে নতুনভাবে শুরু করতে হবে? ষাটজন মিসকীন খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সকলকে কি একই সময়ে খাওয়াতে হবে?

আলহামদুলিল্লাহ।

এক:

যে ব্যক্তি রমযান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করল সে গুনাহর কাজ করল; তার উপর কাফফারা আদায় করা ফরয। কাফফারা হচ্ছে- একজন ক্রীতদাস আযাদ করা; যদি ক্রীতদাস না পায়, তাহলে লাগাতরভাবে দুইমাস রোযা রাখা; যদি সেটাও না পারে, তাহলে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়ানো। যে ব্যক্তি রোযা রাখতে সক্ষম তার জন্য মিসকীন খাওয়ানো জায়েয নেই।

সহবাসের কারণে কাফফারা ফরয হওয়ার দলিল হচ্ছে- সহিহ বুখারী (১৯৩৬) কর্তৃক বর্ণিত হাদিস, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। হঠাৎ করে এক লোক এসে বলল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ধ্বংস হয়েছি। তিনি বললেন: তোমার কি হয়েছে? লোকটি বলল: রোযা রেখে আমি স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি কি একটি ক্রীতদাস আযাদ করতে পারবে? লোকটি বলল: না। তিনি বললেন: তুমি কি লাগাতর দুইমাস রোযা রাখতে পারবে? লোকটি বলল: না। তিনি বললেন: তাহলে তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে?…[আল-হাদিস]

এ হাদিসটি প্রমাণ করছে যে, দুইমাসের রোযা লাগাতরভাবে রাখতে হবে। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তুমি কি লাগাতর দুইমাস রোযা রাখতে পারবে?”

যে ব্যক্তি এই রোযা রাখা শুরু করেছে; এর মধ্যে রমযান এসে গেছে তখন সে রমযানের রোযা রাখবে, ঈদের দিন রোযা রাখবে না। এরপর আবার দুই মাসের অবশিষ্ট রোযাগুলো রাখবে। নতুনভাবে শুরু করতে হবে না। কারণ রমযানের রোযা রাখার কারণে তার ‘লাগাতর’ এর বিষয়টি ভঙ্গ হবে না।

ইবনে কুদামা বলেন:

যে ব্যক্তি শাবান মাসের শুরু থেকে যিহার এর রোযা শুরু করেছে সে ঈদের দিন রোযা রাখবে না; এরপর অবশিষ্ট রোযাগুলো পূর্ণ করবে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি জিলহজ্জ মাসের এক তারিখ থেকে রোজা রাখা শুরু করেছে সে কোরবানীর ঈদের দিন ও তাশরিকের দিনগুলো রোযা রাখবে না। এর অবশিষ্ট রোযাগুলো পূর্ণ করবে।

সারকথা হচ্ছে-

যিহারের রোযা রাখার মাঝখানে যদি এমন কোন সময় এসে পড়ে যে সময়ে কাফফারার রোযা রাখা সহিহ নয় যেমন একব্যক্তি শাবানের এক তারিখ থেকে রোযা রাখা শুরু করল এর মাঝখানে রমযান মাস ও ঈদুল ফিতর পড়ল কিংবা জিলহজ্জের এক তারিখ থেকে রোযা রাখা শুরু করল এর মাঝখানে কোরবানীর ঈদ ও তাশরিকের দিনগুলো পড়ল এতে করে ঐ ব্যক্তির ‘লাগাতর’ এর বিষয়টি ভঙ্গ হবে না। সে এরপর অবশিষ্ট রোযাগুলো পূর্ণ করবে।[মুগনি থেকে সমাপ্ত (৮/২৯)]

দুই:

ষাটজন মিসকীনকে এক সময়ে খাওয়ানো ফরয নয়। বরং ভিন্ন ভিন্ন সময়ে গ্রুপে গ্রুপে সে ব্যক্তি খাওয়াতে পারেন। যাতে সংখ্যা ষাটজন পূর্ণ হয়।

আরও জানতে 1672 নং প্রশ্নোত্তর দেখুন।

আল্লাহই ভাল জানেন।

https://islamqa.info/bn/124817

Share This Post